শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন

সৌদিতে দূর্ঘটনায় দোহারের যুবকের মৃত্যু লাশ দেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

সৌদি আরবের রিয়াদে ছাদ থেকে পড়ে দূর্ঘটনায়

অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ

সৌদি আরবের রিয়াদে ছাদ থেকে পড়ে দূর্ঘটনায় ঢাকার দোহার উপজেলার রাধানগর এলাকার আজগর বেপারী (৩৮) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৈধকাগজ পত্র না থাকায় ও অর্থ সঙ্কটে আজগরের লাশ দেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের লোকজন দু:চিন্তার মধ্যে দিন পার করছেন। আজগর সাড়ে তিন বছর আগে ফ্রি ভিসায় সৌদি আরবের রিয়াদে গেলেও ভিসা জটিলতায় এক বছর ধরে সে দেশে অবৈধভাবে বসবার করছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ধারদেনা করে উপজেলার রাধানগর এলাকার আহম্মদ বেপারীর ছেলে আজগর বেপারী সাড়ে ৩ বছর আগে ফ্রি ভিসায় সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি ওয়েল্ডিংয়ের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

২৪ মার্চ রিয়াদের হারা শহরের একটি বিল্ডিংয়ে কাজ করার সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়। স্থানীয় বাংলাদেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে রিয়াদে আজিজ আব্দুল্লাহ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৩০মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

আজগরের মুত্যুর সংবাদ পরিবারের কাছে পৌছেলে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বামীকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ স্ত্রী শিরিনা বেগম। আজগরের মাও একরকম বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। আজগরের মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। পরিবারের কর্মক্ষম মানুষকে হারিয়ে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পরিবারটি। এলাকার অনেকেই মুত্যুর সংবাদ শোনার পর তারাও হতবিহ্বল।

ছেলের মৃত্যুর খবরে বৃদ্ধা মা মমতাজ বেগম প্রায় পাগলের মতো বিলাপ আর পায়চারি করছেন। প্রতিবেশিরা আজগরের মাকে সান্তনা দেয়ার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছে। তারা জানান, পরিবারটির নেই কোন সহায় সম্বল। ধারদেনা করে বিদেশে গেলেও ঋণের কাটা পরিশোধ না হওয়ায় বাড়িতে আসতে পারছিল না। এরমধ্যে তার মৃত্যু এই পরিবারের নেমে এসেছে অন্ধকার। লাশ আনতে যে টাকার প্রয়োজন তা নেই পরিবারের কাছে।

নিগতের বড় ভাবি রোকসানা আক্তার জানায়, সৌদি আরবে কাজ না থাকায় বাড়িতে টাকা পয়সা দিতে পারেনি। দুইবার আকামার জন্য টাকা জমা দিয়েও পায়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনতে পাচ্ছি লাশ আনতে ৪লাখ টাকা লাগবে। এ টাকা দেয়ার মতো সামর্থ্য নেই।
আজগরের স্ত্রী জানায়, আমার স্বামীর লাশ দেখলে আমি বিশ্বাস করবো। আমার স্বামী মারা গেছে। এ কথা বলেই বার বার বিলাপ করছে। এ অবস্থায় নিহত আজগরের বৈধ কাগজপত্র না থাকার কারণে লাশ দেশে আনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশী জুনায়েদ হাসান নামে এক ব্যক্তি জানান, আজগরের লাশ দেশে আনতে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও এখন পযন্ত কোনো ধরনের আশ্বাস পায়নি। বাংলাদেশ সরকার যদি সহযোগিতা করে তাহলে সহজেই দেশে আনা সম্ভব। আমরা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারাও অর্থকষ্টে থাকার কারনে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে পারবে না বলে জানায়।

দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাঈদুল ইসলাম জানান, সৌদি আরবের বিয়াদে বাংলাদেশের এ্যাম্বাসি রয়েছে। সেখানে মৃত ব্যক্তির পক্ষে হয়ে যোগাযোগ করলে সরকারি সহায়তায় লাশ দেশে পাঠানো ব্যবস্থা করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com